যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনায় সোমবার ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল স্বর্ণের দাম। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা (প্রফিট টেকিং) তৈরি হয়েছে। এ কারণে গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আগের দিনের তুলনায় কমে এসেছে। এছাড়া এ সময় মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বৃদ্ধিও মূল্যবান ধাতুটির দরপতনের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম দশমিক ৭ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ২০৩ ডলার ৫৫ সেন্টে নেমে আসে। এ সময় ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের জন্য প্রতি আউন্স স্বর্ণ বেচাকেনা হয় ৪ হাজার ২৩৪ ডলার ৪০ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ কম।
অনলাইন ব্যাংক ও ট্রেডিং প্লাটফর্ম সুইসকোটের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো দে কাজা বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণ ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২৫০ ডলারের মধ্যে বেচাকেনা হচ্ছে। সোমবার তা ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছে। এ কারণে কিছু ব্যবসায়ী এখন মুনাফা তুলে নিচ্ছেন।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইল্ড দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় আছেন। সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাত টানা নবম মাসের মতো সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া গত মাসের দেশটির বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থানের প্রতিবেদন আজ প্রকাশ হওয়ার কথা। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচক প্রকাশ হবে শুক্রবার। এসব তথ্য আগামী সপ্তাহে ফেডের বৈঠকে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ফেডের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এদিকে বাজারের বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী ফেড চেয়ারম্যান নিয়োগের দিকেও নজর রাখছেন। তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউজের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট এ পদের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। হ্যাসেটও ট্রাম্পের মতো সুদহার কমানোর নীতির পক্ষে অবস্থান বলে জানা গেছে।
দে কাজা জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহ স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৪০০ ডলার সীমার মধ্যে থাকতে পারে। যদিও সুদহার কমানো হলে তা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।
সুদহার কমানোসহ শিল্প খাতে বাড়তি চাহিদার বৃদ্ধির কারণে সোমবার বিশ্ববাজারে রুপার দাম পৌঁছেছিল আউন্সপ্রতি ৫৮ ডলার ৮৩ সেন্টে, যার রেকর্ড সর্বোচ্চ। গতকাল তা ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৫৭ ডলার ১ সেন্টে নেমে এসেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্পট মার্কেটে রুপার দাম বেড়েছে ৯৭ শতাংশ।
প্লাটিনামের দাম গতকাল দশমিক ৯ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৬৪২ ডলার ৫৬ সেন্টে নেমে আসে। এ সময় প্যালাডিয়ামের মূল্য পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪৩৫ ডলার ৪৪ সেন্ট। এটি আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।